সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সূরা আল-হাজ্জ(with amazing reciting Video)

সুবহানাল্লাহ! সূরা আল-হাজ্জ (২২) তিলাওয়াত করা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া হৃদয়ে প্রশান্তি ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। এটি পবিত্র কোরআনের ২২তম সূরা, মদিনায় অবতীর্ণ এবং এতে ৭৮টি আয়াত রয়েছে। এই সূরায় হজের গুরুত্ব, ইবাদতের বিভিন্ন দিক, আখিরাতের প্রস্তুতি এবং আল্লাহর প্রতি বিনম্রতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

সূরা আল-হাজ্জ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত:

  1. আয়াত ১-২: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিঃসন্দেহে কেয়ামতের কম্পন হবে ভয়াবহ। সেদিন তোমরা দেখবে যে, প্রতিটি দুধপানকারী মা তার সন্তানকে ভুলে যাবে এবং প্রতিটি গর্ভবতী নারী তার গর্ভপাত ঘটাবে।"
    এই আয়াতে আল্লাহ কেয়ামতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে মানুষকে সতর্ক করেছেন।

  2. আয়াত ৩৭: "তোমাদের কোরবানির গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে।"
    এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ইবাদতের আসল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি খাঁটি ভালোবাসা ও তাকওয়া অর্জন।

  3. আয়াত ৪১:
    "যারা, যদি আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দিই, নামাজ কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ভালো কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে।"
    এই আয়াতে সেসব মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে যারা সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে।

  4. আয়াত ৭৮:
    "আর তোমরা আল্লাহর পথে সংগ্রাম কর যেমন সংগ্রাম করার অধিকার। তিনি তোমাদের বেছে নিয়েছেন এবং ধর্মে তোমাদের ওপর কোনো কষ্টারোপ করেননি।"
    এখানে আল্লাহ বলেছেন যে ইসলাম একটি সহজ ও সুন্দর ধর্ম, যা মানুষের জন্য করুণার উৎস।


সূরা আল-হাজ্জ এর শিক্ষণীয় দিক:

  1. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য:
    এই সূরায় বারবার আল্লাহর প্রতি বিনম্রতা, ইবাদত, এবং তাঁর হুকুম মানার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  2. হজের গুরুত্ব:
    আল্লাহ বলেছেন যে হজ আমাদের জন্য এক মহান ইবাদত, যা আমাদের জীবনের পাপ মোচনের এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ করে দেয়।

  3. তাকওয়া ও আন্তরিকতার গুরুত্ব:
    কোরবানি, নামাজ এবং অন্যান্য ইবাদতে আন্তরিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাকওয়াপূর্ণ হৃদয় পছন্দ করেন।

  4. কেয়ামতের ভয়াবহতা:
    এই সূরার প্রথমদিকের আয়াতগুলোতে কেয়ামতের ভয়াবহ চিত্র দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা।


অন্তরের প্রশান্তির জন্য এই সূরা থেকে অনুপ্রেরণা:

  • তিলাওয়াত ও অর্থ নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন:
    কোরআনের আয়াতগুলো শুধু পাঠ করার জন্য নয়, বরং সেগুলো বুঝে হৃদয়ে গ্রহণ করার জন্য। সূরা আল-হাজ্জের প্রতিটি আয়াত আমাদের জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষা।

  • ইবাদত বৃদ্ধি করুন:
    সূরা আল-হাজ্জের মূল বার্তা হলো আল্লাহর প্রতি সঠিক ইবাদত। নামাজ, যিকর, এবং দান-সদকা অন্তরকে প্রশান্তি দেয়।

  • আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নিন:
    এই সূরার মাধ্যমে কেয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করে নিজের জীবনের উদ্দেশ্যকে আল্লাহর পথে নিবেদিত করুন।


আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো বুঝে সেই অনুযায়ী জীবন গড়ার তৌফিক দিন। তিলাওয়াত অব্যাহত রাখুন এবং তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্তরকে আল্লাহর প্রেমে পরিপূর্ণ করুন। 🌿



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইফতারের সুন্নতি পদ্ধতি এবং এ সংক্রান্ত ১০টি নির্দেশনা:

সারাদিন রোজা থাকার পরে ইফতার করা মুমিনদের জন্য একটি বিরাট আনন্দের বিষয় তো বটেই বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও। কিন্তু অনেক মুসলিম ইফতারের সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি না জানার কারণে বিভিন্ন ধরণের সুন্নত পরিপন্থী কার্যক্রম করে থাকে। তাই নিম্নে ইফতারের সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হলো: ◈ ১) সূর্য ডোবার সাথে সাথে ইফতার করা। ইচ্ছাকৃত ভাবে বিলম্ব না করা। কিছু মানুষ সূর্য ডোবার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য ৪/৫ মিনিট বিলম্ব করে। কিছু মানুষ আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। নি:সন্দেহে এগুলো সুন্নত পরিপন্থী ও দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি। ◈ ২) ইফতারের পূর্বে আল্লাহর কাছে দুআ করা। সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, রোজা অবস্থায় দুআ কবুল হয়। তাছাড়াও সহিহ হাদিসে ইফতারের আগে দুআ কবুলে বিষয়টিও প্রমাণিত। সে সময় মানুষ এক দিকে রোজা অবস্থায় থাকে অন্য দিকে রোজার কারণে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত ও ক্লান্ত-শ্রান্ত থাকে। তাই এ অবস্থায় দুআ কবুলের অধিক আশা করা যায়। তবে প্রত্যেক রোজাদার নিজে নিজে দুআ করবে। এ ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে দুআ করা বিদআত। ◈ ৩)...