সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মহান আল্লাহ - তিনি বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত সত্তা


সর্বোজ্ঞ-প্রজ্ঞাময় আল্লাহ কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবেন এবং জান্নাতীদের সাথে কথা বলবেন; আল-কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত আল্লাহর মুখ-চেহারা, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল ও নাফস আছে; এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে মুসলিমদের একটি দল বিশ্বাস করেন, যেহেতু আল্লাহকে দেখা যাবে সেহেতু আল্লাহর একটি নির্দিষ্ট আকার (Size) আছে; তাদের মতে “আকারযুক্ত বস্তু দেখা যায় এবং নিরাকার বস্তু দেখ যায় না”। তারা বলেন যে, আল্লাহর এই আকার তাঁর মহান জাতসত্তা ও মহান মর্যাদার সাথে শোভনীয় এবং মানানসই; তারা আরো বলেন যে, আল্লাহর আকার তাঁর সৃষ্ট কোন বস্তুর আকার ও আকৃতির মত নয়। “নিরাকার কোন বস্তুকে দেখা যায় না” এই ধারণার উপর ভিত্তির করেই মুসলিমেদের এই দলটি “আল্লাহর আকার আছে” এই বিশ্বাস লালন করেন। 

মুসলিমদের দ্বিতীয় দলটি মনে করেন যে “আল্লাহ নিরাকার অর্থাৎ আল্লাহর কোন আকার নেই”। আল্লাহর চেহারা-মুখ, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল, নাফস ইত্যাদির যে বর্ণনা কুরআনে ও হাদীসে আছে তা মূলত আল্লাহর অনুপম শক্তির বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহর অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গের উল্লেখ করার সময় এই দ্বিতীয় দলটি এইভাবে বলেন যে, আল্লাহ‌র ক্বুদরতি হাত, ক্বুদরতি পা, ক্বুদরতি চোখ, ক্বুদরতি কান, ক্বুদরতি আঙ্গুল ইত্যাদি। 

এখানে ক্বুদরত শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর শক্তি, সামর্থ্য, ক্ষমতা ও যোগ্যতা। এই দ্বিতীয় দলের মতে আল্লাহর মুখ-চেহারা, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল ও নাফস এই সব বিশেষণ বিশ্বাস করার অর্থই তাঁকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা। তাদের বিশ্বাস শুধুমাত্র মানুষ বা অন্য যে কোন সৃষ্টিকে এই সকল বিশেষণ দ্বারা বিশেষিত করা যায়, আল্লাহকে নয়। তাদের মতে যেহেতু আল্লাহ বলেন “কোন কিছুই তাঁর মত নয় (৪২:১১)”, সেহেতু আল্লাহর ক্ষেত্রে এরূপ বিশেষণ আরোপ করা যাবে না। 

আল্লাহর ‘আকার অথবা নিরাকার’ এই ধারণা-কনসেপ্ট নিয়ে এই দুইদল মুসলিমদের মধ্যে তর্ক ও বিতর্ক প্রায় দেখা যায়। তারা নিজ নিজ মতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে অন্যকে গোমরাহ বলতে দ্বিধা বোধ করেন না। আল্লাহর আকার আছে অথবা আল্লাহ নিরাকার, এইটি ব্যাখ্যা করার পূর্বে বস্তু, পদার্থ, ভর, মৌল বা অবস্তুর আকার বা নিরাকারের যে ধারণা ও তথ্য বিদ্যমান, তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। বস্তু, পদার্থ, ভর, মৌল বা অবস্তুকে প্রধানত নিম্নের কয়েকটি অবস্থায় বিদ্যমান:  

(ক) বস্তুর প্রথম অবস্থা: কঠিন বস্তু: এই ধরণের বস্তুর আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) আছে; এধরণের বস্তুর দৈর্ঘ (Length), প্রস্থ-প্রসার-চওড়া (Breadth), উচ্চতা (Heigth), ঘনত্ব (Density) আছে। এটি সাধারণত কঠিন-শক্ত, জায়গা দখল করে; এটি দেখা যায়, ধরা যায়, এটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আকর্ষিত হয় এবং এর ওজন আছে; যেমন ইট, পাথর, টেবিল, চেয়ার, বাড়ি, গাড়ি, লোহা, সোনা, রূপা, মানুষ, গাছ ইত্যাদি। এই ধরণের বস্তুর সাথে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞাতা সবচেয়ে বেশী।

(খ) বস্তুর দ্বিতীয় অবস্থা: তরল বস্তু: এই ধরণের বস্তুর কোন আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) নেই, এটি নিরাকার; তবে এর আয়তন (Volume) ও ঘনত্ব (Density) আছে; এটি কঠিন-শক্ত নয়, এটি তরল, যে পাত্রে রাখা যাবে সে পাত্রের আকার ধারণ করে, জায়গা দখল করে, এটি দেখা যায় কিন্তু সাধারণ অর্থে এটি ধরা যায় না, এটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আকর্ষিত হয় এবং এর ওজন আছে; যেমন পানি, তেল, পেট্রোল, মধু ইত্যাদি। পৃথিবীতে চার ভাগের তিন ভাগই পানি। এই পানি নিয়েই মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞাতাও অনেক অনেক বেশী। 

(গ) বস্তুর তৃতীয় অবস্থা: বায়োবীয় বস্তু: এই ধরণের বস্তুর কোন আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) নেই, এটি নিরাকার; তবে এর আয়তন (Volume) ও ঘনত্ব (Density) আছে; এটি কঠিন-শক্ত নয়, এটি বায়ু-বাতাস জাতীয়, জায়গা দখল করে, ওজন আছে কিন্তু এটি দেখা যায় না, ধরাও যায় না, তবে অনুভব করা যায়, এটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আকর্ষিত হয় এবং এর ওজন আছে। যেমন বায়ু, অক্সিজেন, ইত্যাদি। পৃথিবীর উপরিভাগ বায়ু দ্বারা আবৃত; বায়ু ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না; এই বায়ু নিয়েই মানুষের অভিজ্ঞাতাও সবচেয়ে বেশী।  

বস্তু-পদার্থ সাধারণত কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিন অবস্থায় বিদ্যমান। এই কঠিন, তরল ও বায়ুবীয় পদার্থই আল্লাহর সৃষ্ট। কঠিন পদার্থের আকার (Size), আকৃতি (Safe) ও ঘনত্ব (Density) আছে। অন্যদিকে তরল ও বায়ুবীয় পদার্থের শুধুই আয়তন (Volume) ও ঘনত্ব (Density) আছে কিন্তু কোন  আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) নেই, এটি নিরাকার।  

(ঘ) আল্লাহর অভিনব সৃষ্টি  যা অস্তিত্বে বিদ্যমান: সময় (time), আলো (light), অন্ধকার (darkness), আগুন (fire), ঠাণ্ডা (cold), তাপ (heat), শব্দ (sound), বিদ্যুৎ (electricity), চুম্বক (magnet) ও বিভিন্ন ধরণের শক্তি (different form energy): এগুলো আল্লাহ্‌র এমন এক অভিনব সৃষ্টি  যা অস্তিত্বে বিদ্যমান; যার মধ্যে বস্তুর কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থার কোন বৈশিষ্ট্য নেই (No size, no safe, no volume, no density); ধরা যায় না; ছোঁয়া যায় না; এগুলি বায়ু জাতীয় নয়, এগুলির কোন আকার-আকৃতি নেই, এগুলি প্রধানত নিরাকার; মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা এগুলো সাধারণত আকর্ষিত হয় না।

(ঙ) মানুষের চিন্তা, কল্পনা, স্মৃতি, বুদ্ধি, অনুভূতি ও নাফ্‌স এগুলো নিরাকার: এগুলো শুধু অনুভব করার বিষয়; আল্লাহই এদের স্রষ্টা। ফিরিশতা, জিন, বিশ্বজাহানসহ সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এর দুয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে, কিছু আছে আকার ও আকৃতি বিশিষ্ট, আর কিছু আছে নিরাকার; আল্লাহই এদের স্রষ্টা। আল্লাহর বিশ্বজাহানে এমন অনেক কিছু সৃষ্টি আছে যা মানুষের অজানা; এদের আকার, আকৃতি ও নিরাকারের কোন ধারণায় মানুষের নেই। মহাপরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ, আল্লাহই এদের স্রষ্টা। মু’মিন সর্বান্তকরণে শুধুই বিশ্বাস করবে এ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ।  

(চ) চাঁদ ও সূর্যের সৃষ্টি তত্ত্ব: সৃষ্টি তত্ত্বের দিক দিয়ে চাঁদ গোলাকার দৃশ্যমান, আকার বিশিষ্ট বস্তু; অন্যদিকে সূর্য গোলাকার দৃশ্যমান, নিরাকার গ্যাসীয় বস্তু। আলো ও আগুন হলো দৃশ্যমান নিরাকার; অন্যদিকে তাপ, ঠাণ্ডা, শব্দ, শক্তি, সময় ইত্যাদি হলো নিরাকার। আল্লাহ বলেন: “লাইসা কামিস্‌লিহি শাইয়ুং অর্থাৎ কোন কিছুই তাঁর মত - তাঁর সদৃশ নয় (৪২:১১)”। উক্ত আয়াতে এটি প্রতীয়মান যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট আকার ও আকৃতি বিশিষ্ট কোন বস্তু বা মৌল উপাদান নন; কিংবা নন তিনি তাঁর সৃষ্ট কোন নিরাকার বিশিষ্ট বস্তু; কিংবা নন তিনি তাঁর সৃষ্ট দৃশ্যমান বা অদৃশ্য নিরাকার বিশিষ্ট কোন সত্তা।  

(ছ) আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু না বলা যে বিষয়ে আমাদের কোন জ্ঞান নেই: “আল্লাহর আকার আছে, নাকি তিনি নিরাকার বিশিষ্ট কোন সত্তা” এই বিষয়ের উপর আল্লাহ মানুষের নিকট কোন সনদ পাঠান নি। তাই এমন একটি বিষয় যা একমাত্র আল্লাহর জ্ঞানের আওতাধীন সে বিষয় সম্পর্কে কোন মুসলিমের এভাবে বলা সংগত নয় যে আল্লাহর আকার আছে, অথবা আল্লাহ নিরাকার, অথবা আল্লাহর অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গগুলো তাঁর কুদরত, শক্তি ও ক্ষমতা? আল্লাহর ঘোষণা: তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই (১০:৬৮)। ইমাম আবু হানিফা (রাহি.) এর মতে এভাবে বিশ্বাস করা ও মুখে বলার অর্থ আল্লাহর এসকল বিশেষণকে অস্বীকার ও বাতিল করা যা কাদেরিয়া ও মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস। (আল-ফিকহুল আকবর: ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর) ৷

(জ) আশরাফুল মাখলুকাত - মানুষের সকল কিছু সীমিত: মানুষের মধ্যে রয়েছে আকার, আকৃতি, দেহ ও অস্থি; রয়েছে নাফ্‌স, চিন্তা, কল্পনা, স্মৃতি, বুদ্ধি ও অনুভূতির মত নিরাকারের অস্তিত্ব; আর এই অদ্ভুত সমন্বয়ের মাধ্যমে মানুষ হয়েছে আশরাফুল মাখলুকাত। কিন্তু সীমিত চিন্তা, কল্পনা, স্মৃতি, বুদ্ধি ও অনুভূতি নিয়ে মানুষের পক্ষে আল্লাহকে তাঁরই সৃষ্ট আকার ও নিরাকারের বেড়াজালে আবদ্ধ করা সঙ্গত নয়। 

(ঝ) এড়িয়ে চল আল্লাহ সম্পর্কে সকল কিছু বিতর্ক: মু’মিন ও মুসলিমগণ অধিক সতর্কতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে “আকার ও নিরাকার” শব্দ দুটি মহান আল্লাহর শানে যুক্ত করা থেকে বিরত থাকবে; এড়িয়ে যাবে আকার ও নিরাকার সম্পর্কিত সকল প্রকার বিতর্ক; রক্ষা করবে নিজেকে আল্লাহর আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হয় এমন সব চিন্তা, চেতনা, ভাবনা, অনুমান, বিশ্বাস, কথা এবং কাজ থেকে। 

(ঞ) আল্লাহ ভীতি ও তাকওয়ার নীতি অক্ষুণ্ণ রেখে মু’মিন-মুসলিম বিশ্বাস করবে: আল্লাহর যে সকল অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গের উল্লেখ কুরআন ও হাদীসে আছে সেগুলো মহান আল্লাহর জাতসত্তা, তাঁর মহান মর্যাদা-ইজ্জতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, শোভনীয় এবং মানানসই। মু’মিন বিশ্বাস করবে আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট কোন আকার ও নিরাকার বিশিষ্ট কোন বস্তু-অবস্তু, মৌল-অমৌলের মত নয় এবং কোন কিছুই আল্লাহর সদৃশ নয়। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাসূল (সা.) এর কবর যিয়ারত সম্পর্কিত যয়ীফ বা দুর্বল হাদীস

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘তিনটি মসজিদ ব্যতীত বরকতের আশায় অন্য কোনো স্থানের  উদ্দেশ্যে লম্বা সফর করা যাবে না, তিনটি মসজিদ হলো-(১) মসজদুল হারাম (মক্কা), (২) মসজিদূর রাসূল অর্থাৎ-মসজিদে নববী (মদীনা) এবং (৩) বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুযালেম)।’(সহিহ বুখারী-হা: ১১৮৯,সহিহ মুসলিম-হা: ১৩৯৭)।   যে সকল হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কবর যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে লম্বা সফর বৈধ হওয়ার দলীল পেশ করা হয়, সে সকল হাদীসের বর্ণনাসূত্র দুর্বল ও মাওযূ বা বানোয়াট। হাফিজ দারাকুতনী, বায়হাক্বী, ইবনু হাজর প্রমুখ মুহাদ্দিস এই সব হাদীসসমূহের পরস্পর দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। সুতরাং উক্ত দুর্বল হাদীসগুলোকে সহিহ হাদীসের মোকাবিলায় পেশ করা বৈধ হবে না।    রাসুল (সা.) কবর জিয়ারত সম্পর্কিত বর্ণনাসূত্র যয়ীফ (দুর্বল) বা মাওদূ (জাল-বানোয়াট): এ বিষয়ে কতিপয় যয়ীফ ও মাওদূ হাদীস এখানে উল্লেখ করা হল যাতে পাঠকবৃন্দ সেগুলো জানতে পারেন ও ধোঁকা থেকে সতর্ক থাকেন।   প্রথম হাদীস: “যে আমার কবর যিয়ারত করবে, আমার শাফা’য়াত তার প্রাপ্য হবে”। দুটি সনদে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। প্রথম সনদের রাবী অত্যন্ত দুর্বল, ...

জান্নাতে প্রবেশের দৃশ্য এবং বিভিন্ন মর্যাদার দরজা (বাব)

যারা তাদের রব্বকে ভয় করত তাদেরকে দলেদলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে তখন এর দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে। জান্নাতের দ্বাররক্ষীরা বলবে তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে। (৩৯:৭৩) যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন মু’মিন-মুত্তাকীরা বলবে, “প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করিয়েছেন এই ভূমির; আমরা জান্নাতে যেথায় ইচ্ছা বসবাস করব; সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম” (৩৯:৭৪)।  এছাড়া বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত জান্নাতের বিভিন্ন দরজার (গেট বা বাবের) যে  উল্লেখ পাওয়া যায় তা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে, সেই সাথে এসকল গেটগুলি বান্দার জন্য মর্যাদার বিশেষ প্রতীকও বটে। যেমন:  (১) বাব-আস সালাহ দিয়ে সালাত আদায়ে তৎপর মু’মিন-মুত্তাকীরা প্রবেশ করবে, (২) বাব-আল জিহাদ দিয়ে দুনিয়ার জীবনে জিহাদে অংশগ্রহণকরীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, (৩) বাব-আস সাদাক্বাহ দিয়ে ঐসব ব্যক্তিবর্গ প্রবেশ করবে যারা দুনিয়াতে বেশী-বেশী দান ও সাদাক্বাহ করেছে, (৪) বাব-আর রাইয়ান তাদের জন্য নির্দিষ্ট যারা নিয়ম...

আল্লাহ তা‘আলার হক বা প্রাপ্য - পর্ব-১

আল্লাহ তা ‘ আলা স্বীয় বান্দাদের জলে-স্থলে, শরীরে ও দিগন্ত জুড়ে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নি‘আমতরাজি দ্বারা আবৃত করে রেখেছেন। তিনি বলেন, ﴿ أَلَمۡ تَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَأَسۡبَغَ عَلَيۡكُمۡ نِعَمَهُۥ ظَٰهِرَةٗ وَبَاطِنَةٗ ﴾ [لقمان: ٢٠] “তোমরা কি দেখ না আল্লাহ তা ‘ আলা নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি‘আমতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন ?” [সূরা লুকমান, আয়াত: ২০] অন্যত্র বলেন , ﴿ وَءَاتَىٰكُم مِّن كُلِّ مَا سَأَلۡتُمُوهُۚ وَإِن تَعُدُّواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ لَا تُحۡصُوهَآۗ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَظَلُومٞ كَفَّارٞ ٣٤ ﴾ [ابراهيم: ٣٤] “যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি-ই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নি‘আমত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। আফসোস! মানুষ সীমাহীন অন্যায়পরায়ণ, অকৃতজ্ঞ।” [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৩৪] ﴿ وَإِن تَعُدُّواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ لَا تُحۡصُوهَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ ١٨ ﴾ [النحل: ١٨] “যদি আল্লাহর নি ‘ আমত গণনা কর, তবে গুণে শেষ ক...

শবে বরাত ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

  শবে বরাতের আভিধানিক অর্থ অনুসন্ধান: শব ফারসি শব্দ । অর্থ রাত বা রজনী । বরাত শব্দটিও মূলে ফারসি । অর্থ ভাগ্য । দু’শব্দের একত্রে অর্থ হবে , ভাগ্য-রজনী । বরাত শব্দটি আরবী ভেবে অনেকেই ভুল করে থাকেন । কারণ বরাত বলতে আরবী ভাষায় কোনো শব্দ নেই । যদি বরাত শব্দটি আরবী বারাআত শব্দের অপভ্রংশ ধরা হয় তবে তার অর্থ   হবে — সম্পর্কচ্ছেদ বা বিমুক্তিকরণ । কিন্তু কয়েকটি কারণে এ অর্থটি এখানে অগ্রাহ্য , মেনে নেয়া যায় না- ১. আগের শব্দটি ফারসী হওয়ায় বরাত শব্দটিও ফারসী হবে , এটাই স্বাভাবিক । ২. শাবানের মধ্যরজনীকে আরবী ভাষার দীর্ঘ পরম্পরায় কেউই বারা‘আতের রাত্রি হিসাবে আখ্যা দেন নি । ৩. রমযান মাসের লাইলাতুল কাদরকে কেউ-কেউ লাইলাতুল বারা‘আত হিসেবে নামকরণ করেছেন , শাবানের মধ্যরজনীকে নয় । আরবী ভাষায় এ রাতটিকে কী বলা হয় ? আরবী ভাষায় এ রাতটিকে লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান- শাবান মাসের মধ্য রজনী — হিসেবে অভিহিত করা হয় । শাবানের মধ্যরাত্রির কি কোনো ফযিলত বর্ণিত হয়েছে ? শাবান মাসের মধ্য রাত্রির ফযিলত সম্পর্কে কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে: ১. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ...

আল-কুরআনে জাহান্নামের বর্ণনা

  জাহান্নাম (الْجَهَنَّمُ) শব্দটি হিব্রু ভাষা থেকে গৃহীত; আবার কেউ-কেউ মনে করেন জাহান্নাম শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে উদ্ভুদ্ধ। জাহান্নামের অর্থ হলো দোযখ, নরক, আগুনের আধার। জাহান্নাম শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গে মোট ৭৭ বার আল-কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে।    আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া-তা’য়ালার বাণী: (وَالَّذِيۡنَ يَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَـنَّمَ ​ۖ اِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ​ۖ) এবং তারা বলে, “হে আমাদের রব্ব, আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব বিদুরিত করুন; এর আযাব তো নিশ্চিত বিনাশ’ (২৫:৬৫)।    আল্লাহ্‌র বাণী: (وَاِذَا قِيۡلَ لَهُ اتَّقِ اللّٰهَ اَخَذَتۡهُ الۡعِزَّةُ بِالۡاِثۡمِ​ فَحَسۡبُهٗ جَهَنَّمُ​ؕ وَلَبِئۡسَ الۡمِهَادُ‏) যখন তাকে বলা হয়, ‘তুমি আল্লাহ্‌কে ভয় কর’ তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপানুষ্ঠানে লিপ্ত করে; সুতরাং জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট; এবং নিশ্চয় জাহান্নাম অতি নিকৃষ্ট আবাস্থল (২:২০৬)।    যারা শির্‌ক-কুফুরি করে, যুলুম-অত্যাচার করে, আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে অস্বীকার করে, আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহ্‌র ক্রোধের পাত্র হয়, তাদের জন্য রয়েছে...

কবরের ফিতনা দ্বারা কী উদ্দেশ্য

কবরের ফিতনা দ্বারা কী উদ্দেশ্য? কবরের আজাব এবং কবরের ফিতনা কি ভিন্ন? কারা এই ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে? ফিতনা (فتنة) শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে।  যেমন: পরীক্ষা, দাঙ্গা, গোলযোগ, বিপদ, কষ্ট, পরীক্ষা, সম্মোহন ও আকর্ষণ ইত্যাদি। [ডা. ফজলুর রাহমান রচিত আরবী-বাংলা অভিধান] তবে কুরআন-হাদিসে পরীক্ষা অর্থে ‘ফিতনা’ শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে ‘ফিতনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ “আর জেনে রেখো যে, নিঃসন্দেহে তোমাদের ধনদৌলত ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ।” [সূরা আনফাল: ২৮]  ইবনে কাসির রাহ. ফিতনা শব্দের অর্থ করতে গিয়ে বলেন, أي : اختبار وامتحان منه لكم অর্থাৎ পরীক্ষা করা, যাচায় বা পরখ করা। মহান আল্লাহ তোমাদেরকে এগুলো দিয়েছেন যেন তিনি জানতে পারেন যে, তোমরা এসব পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর ও তার আনুগত্য কর না কি এগুলোতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে তার থেকে দূরে সরে পড়।” [তাফসিরে ইবনে কাসির]  আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,   وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَة...