সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মহান আল্লাহ - তিনি বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত সত্তা


সর্বোজ্ঞ-প্রজ্ঞাময় আল্লাহ কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবেন এবং জান্নাতীদের সাথে কথা বলবেন; আল-কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত আল্লাহর মুখ-চেহারা, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল ও নাফস আছে; এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে মুসলিমদের একটি দল বিশ্বাস করেন, যেহেতু আল্লাহকে দেখা যাবে সেহেতু আল্লাহর একটি নির্দিষ্ট আকার (Size) আছে; তাদের মতে “আকারযুক্ত বস্তু দেখা যায় এবং নিরাকার বস্তু দেখ যায় না”। তারা বলেন যে, আল্লাহর এই আকার তাঁর মহান জাতসত্তা ও মহান মর্যাদার সাথে শোভনীয় এবং মানানসই; তারা আরো বলেন যে, আল্লাহর আকার তাঁর সৃষ্ট কোন বস্তুর আকার ও আকৃতির মত নয়। “নিরাকার কোন বস্তুকে দেখা যায় না” এই ধারণার উপর ভিত্তির করেই মুসলিমেদের এই দলটি “আল্লাহর আকার আছে” এই বিশ্বাস লালন করেন। 

মুসলিমদের দ্বিতীয় দলটি মনে করেন যে “আল্লাহ নিরাকার অর্থাৎ আল্লাহর কোন আকার নেই”। আল্লাহর চেহারা-মুখ, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল, নাফস ইত্যাদির যে বর্ণনা কুরআনে ও হাদীসে আছে তা মূলত আল্লাহর অনুপম শক্তির বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহর অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গের উল্লেখ করার সময় এই দ্বিতীয় দলটি এইভাবে বলেন যে, আল্লাহ‌র ক্বুদরতি হাত, ক্বুদরতি পা, ক্বুদরতি চোখ, ক্বুদরতি কান, ক্বুদরতি আঙ্গুল ইত্যাদি। 

এখানে ক্বুদরত শব্দের অর্থ হলো আল্লাহর শক্তি, সামর্থ্য, ক্ষমতা ও যোগ্যতা। এই দ্বিতীয় দলের মতে আল্লাহর মুখ-চেহারা, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল ও নাফস এই সব বিশেষণ বিশ্বাস করার অর্থই তাঁকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা। তাদের বিশ্বাস শুধুমাত্র মানুষ বা অন্য যে কোন সৃষ্টিকে এই সকল বিশেষণ দ্বারা বিশেষিত করা যায়, আল্লাহকে নয়। তাদের মতে যেহেতু আল্লাহ বলেন “কোন কিছুই তাঁর মত নয় (৪২:১১)”, সেহেতু আল্লাহর ক্ষেত্রে এরূপ বিশেষণ আরোপ করা যাবে না। 

আল্লাহর ‘আকার অথবা নিরাকার’ এই ধারণা-কনসেপ্ট নিয়ে এই দুইদল মুসলিমদের মধ্যে তর্ক ও বিতর্ক প্রায় দেখা যায়। তারা নিজ নিজ মতের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখে অন্যকে গোমরাহ বলতে দ্বিধা বোধ করেন না। আল্লাহর আকার আছে অথবা আল্লাহ নিরাকার, এইটি ব্যাখ্যা করার পূর্বে বস্তু, পদার্থ, ভর, মৌল বা অবস্তুর আকার বা নিরাকারের যে ধারণা ও তথ্য বিদ্যমান, তা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। বস্তু, পদার্থ, ভর, মৌল বা অবস্তুকে প্রধানত নিম্নের কয়েকটি অবস্থায় বিদ্যমান:  

(ক) বস্তুর প্রথম অবস্থা: কঠিন বস্তু: এই ধরণের বস্তুর আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) আছে; এধরণের বস্তুর দৈর্ঘ (Length), প্রস্থ-প্রসার-চওড়া (Breadth), উচ্চতা (Heigth), ঘনত্ব (Density) আছে। এটি সাধারণত কঠিন-শক্ত, জায়গা দখল করে; এটি দেখা যায়, ধরা যায়, এটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আকর্ষিত হয় এবং এর ওজন আছে; যেমন ইট, পাথর, টেবিল, চেয়ার, বাড়ি, গাড়ি, লোহা, সোনা, রূপা, মানুষ, গাছ ইত্যাদি। এই ধরণের বস্তুর সাথে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞাতা সবচেয়ে বেশী।

(খ) বস্তুর দ্বিতীয় অবস্থা: তরল বস্তু: এই ধরণের বস্তুর কোন আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) নেই, এটি নিরাকার; তবে এর আয়তন (Volume) ও ঘনত্ব (Density) আছে; এটি কঠিন-শক্ত নয়, এটি তরল, যে পাত্রে রাখা যাবে সে পাত্রের আকার ধারণ করে, জায়গা দখল করে, এটি দেখা যায় কিন্তু সাধারণ অর্থে এটি ধরা যায় না, এটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আকর্ষিত হয় এবং এর ওজন আছে; যেমন পানি, তেল, পেট্রোল, মধু ইত্যাদি। পৃথিবীতে চার ভাগের তিন ভাগই পানি। এই পানি নিয়েই মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞাতাও অনেক অনেক বেশী। 

(গ) বস্তুর তৃতীয় অবস্থা: বায়োবীয় বস্তু: এই ধরণের বস্তুর কোন আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) নেই, এটি নিরাকার; তবে এর আয়তন (Volume) ও ঘনত্ব (Density) আছে; এটি কঠিন-শক্ত নয়, এটি বায়ু-বাতাস জাতীয়, জায়গা দখল করে, ওজন আছে কিন্তু এটি দেখা যায় না, ধরাও যায় না, তবে অনুভব করা যায়, এটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা আকর্ষিত হয় এবং এর ওজন আছে। যেমন বায়ু, অক্সিজেন, ইত্যাদি। পৃথিবীর উপরিভাগ বায়ু দ্বারা আবৃত; বায়ু ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না; এই বায়ু নিয়েই মানুষের অভিজ্ঞাতাও সবচেয়ে বেশী।  

বস্তু-পদার্থ সাধারণত কঠিন, তরল ও বায়বীয় এই তিন অবস্থায় বিদ্যমান। এই কঠিন, তরল ও বায়ুবীয় পদার্থই আল্লাহর সৃষ্ট। কঠিন পদার্থের আকার (Size), আকৃতি (Safe) ও ঘনত্ব (Density) আছে। অন্যদিকে তরল ও বায়ুবীয় পদার্থের শুধুই আয়তন (Volume) ও ঘনত্ব (Density) আছে কিন্তু কোন  আকার (Size) ও আকৃতি (Safe) নেই, এটি নিরাকার।  

(ঘ) আল্লাহর অভিনব সৃষ্টি  যা অস্তিত্বে বিদ্যমান: সময় (time), আলো (light), অন্ধকার (darkness), আগুন (fire), ঠাণ্ডা (cold), তাপ (heat), শব্দ (sound), বিদ্যুৎ (electricity), চুম্বক (magnet) ও বিভিন্ন ধরণের শক্তি (different form energy): এগুলো আল্লাহ্‌র এমন এক অভিনব সৃষ্টি  যা অস্তিত্বে বিদ্যমান; যার মধ্যে বস্তুর কঠিন, তরল ও বায়বীয় অবস্থার কোন বৈশিষ্ট্য নেই (No size, no safe, no volume, no density); ধরা যায় না; ছোঁয়া যায় না; এগুলি বায়ু জাতীয় নয়, এগুলির কোন আকার-আকৃতি নেই, এগুলি প্রধানত নিরাকার; মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা এগুলো সাধারণত আকর্ষিত হয় না।

(ঙ) মানুষের চিন্তা, কল্পনা, স্মৃতি, বুদ্ধি, অনুভূতি ও নাফ্‌স এগুলো নিরাকার: এগুলো শুধু অনুভব করার বিষয়; আল্লাহই এদের স্রষ্টা। ফিরিশতা, জিন, বিশ্বজাহানসহ সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এর দুয়ের মাঝে যা কিছু রয়েছে, কিছু আছে আকার ও আকৃতি বিশিষ্ট, আর কিছু আছে নিরাকার; আল্লাহই এদের স্রষ্টা। আল্লাহর বিশ্বজাহানে এমন অনেক কিছু সৃষ্টি আছে যা মানুষের অজানা; এদের আকার, আকৃতি ও নিরাকারের কোন ধারণায় মানুষের নেই। মহাপরাক্রমশীল, প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ, আল্লাহই এদের স্রষ্টা। মু’মিন সর্বান্তকরণে শুধুই বিশ্বাস করবে এ সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন আল্লাহ।  

(চ) চাঁদ ও সূর্যের সৃষ্টি তত্ত্ব: সৃষ্টি তত্ত্বের দিক দিয়ে চাঁদ গোলাকার দৃশ্যমান, আকার বিশিষ্ট বস্তু; অন্যদিকে সূর্য গোলাকার দৃশ্যমান, নিরাকার গ্যাসীয় বস্তু। আলো ও আগুন হলো দৃশ্যমান নিরাকার; অন্যদিকে তাপ, ঠাণ্ডা, শব্দ, শক্তি, সময় ইত্যাদি হলো নিরাকার। আল্লাহ বলেন: “লাইসা কামিস্‌লিহি শাইয়ুং অর্থাৎ কোন কিছুই তাঁর মত - তাঁর সদৃশ নয় (৪২:১১)”। উক্ত আয়াতে এটি প্রতীয়মান যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট আকার ও আকৃতি বিশিষ্ট কোন বস্তু বা মৌল উপাদান নন; কিংবা নন তিনি তাঁর সৃষ্ট কোন নিরাকার বিশিষ্ট বস্তু; কিংবা নন তিনি তাঁর সৃষ্ট দৃশ্যমান বা অদৃশ্য নিরাকার বিশিষ্ট কোন সত্তা।  

(ছ) আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু না বলা যে বিষয়ে আমাদের কোন জ্ঞান নেই: “আল্লাহর আকার আছে, নাকি তিনি নিরাকার বিশিষ্ট কোন সত্তা” এই বিষয়ের উপর আল্লাহ মানুষের নিকট কোন সনদ পাঠান নি। তাই এমন একটি বিষয় যা একমাত্র আল্লাহর জ্ঞানের আওতাধীন সে বিষয় সম্পর্কে কোন মুসলিমের এভাবে বলা সংগত নয় যে আল্লাহর আকার আছে, অথবা আল্লাহ নিরাকার, অথবা আল্লাহর অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গগুলো তাঁর কুদরত, শক্তি ও ক্ষমতা? আল্লাহর ঘোষণা: তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলছ যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই (১০:৬৮)। ইমাম আবু হানিফা (রাহি.) এর মতে এভাবে বিশ্বাস করা ও মুখে বলার অর্থ আল্লাহর এসকল বিশেষণকে অস্বীকার ও বাতিল করা যা কাদেরিয়া ও মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস। (আল-ফিকহুল আকবর: ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর) ৷

(জ) আশরাফুল মাখলুকাত - মানুষের সকল কিছু সীমিত: মানুষের মধ্যে রয়েছে আকার, আকৃতি, দেহ ও অস্থি; রয়েছে নাফ্‌স, চিন্তা, কল্পনা, স্মৃতি, বুদ্ধি ও অনুভূতির মত নিরাকারের অস্তিত্ব; আর এই অদ্ভুত সমন্বয়ের মাধ্যমে মানুষ হয়েছে আশরাফুল মাখলুকাত। কিন্তু সীমিত চিন্তা, কল্পনা, স্মৃতি, বুদ্ধি ও অনুভূতি নিয়ে মানুষের পক্ষে আল্লাহকে তাঁরই সৃষ্ট আকার ও নিরাকারের বেড়াজালে আবদ্ধ করা সঙ্গত নয়। 

(ঝ) এড়িয়ে চল আল্লাহ সম্পর্কে সকল কিছু বিতর্ক: মু’মিন ও মুসলিমগণ অধিক সতর্কতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে “আকার ও নিরাকার” শব্দ দুটি মহান আল্লাহর শানে যুক্ত করা থেকে বিরত থাকবে; এড়িয়ে যাবে আকার ও নিরাকার সম্পর্কিত সকল প্রকার বিতর্ক; রক্ষা করবে নিজেকে আল্লাহর আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হয় এমন সব চিন্তা, চেতনা, ভাবনা, অনুমান, বিশ্বাস, কথা এবং কাজ থেকে। 

(ঞ) আল্লাহ ভীতি ও তাকওয়ার নীতি অক্ষুণ্ণ রেখে মু’মিন-মুসলিম বিশ্বাস করবে: আল্লাহর যে সকল অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গের উল্লেখ কুরআন ও হাদীসে আছে সেগুলো মহান আল্লাহর জাতসত্তা, তাঁর মহান মর্যাদা-ইজ্জতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, শোভনীয় এবং মানানসই। মু’মিন বিশ্বাস করবে আল্লাহ তাঁর সৃষ্ট কোন আকার ও নিরাকার বিশিষ্ট কোন বস্তু-অবস্তু, মৌল-অমৌলের মত নয় এবং কোন কিছুই আল্লাহর সদৃশ নয়। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সূরা আল-হাজ্জ(with amazing reciting Video)

সুবহানাল্লাহ! সূরা আল-হাজ্জ (২২) তিলাওয়াত করা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়া হৃদয়ে প্রশান্তি ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করে। এটি পবিত্র কোরআনের ২২তম সূরা, মদিনায় অবতীর্ণ এবং এতে ৭৮টি আয়াত রয়েছে। এই সূরায় হজের গুরুত্ব, ইবাদতের বিভিন্ন দিক, আখিরাতের প্রস্তুতি এবং আল্লাহর প্রতি বিনম্রতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সূরা আল-হাজ্জ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত: আয়াত ১-২ : "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় কর। নিঃসন্দেহে কেয়ামতের কম্পন হবে ভয়াবহ। সেদিন তোমরা দেখবে যে, প্রতিটি দুধপানকারী মা তার সন্তানকে ভুলে যাবে এবং প্রতিটি গর্ভবতী নারী তার গর্ভপাত ঘটাবে।" এই আয়াতে আল্লাহ কেয়ামতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে মানুষকে সতর্ক করেছেন। আয়াত ৩৭ : "তোমাদের কোরবানির গোশত বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না; বরং তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে।" এই আয়াতে আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ইবাদতের আসল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি খাঁটি ভালোবাসা ও তাকওয়া অর্জন। আয়াত ৪১ : "যারা, যদি আমি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দিই, নামাজ কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ভালো কাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে।" এই আ...

ইফতারের সুন্নতি পদ্ধতি এবং এ সংক্রান্ত ১০টি নির্দেশনা:

সারাদিন রোজা থাকার পরে ইফতার করা মুমিনদের জন্য একটি বিরাট আনন্দের বিষয় তো বটেই বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও। কিন্তু অনেক মুসলিম ইফতারের সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি না জানার কারণে বিভিন্ন ধরণের সুন্নত পরিপন্থী কার্যক্রম করে থাকে। তাই নিম্নে ইফতারের সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হলো: ◈ ১) সূর্য ডোবার সাথে সাথে ইফতার করা। ইচ্ছাকৃত ভাবে বিলম্ব না করা। কিছু মানুষ সূর্য ডোবার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরও অতিরিক্ত সতর্কতার জন্য ৪/৫ মিনিট বিলম্ব করে। কিছু মানুষ আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। নি:সন্দেহে এগুলো সুন্নত পরিপন্থী ও দীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি। ◈ ২) ইফতারের পূর্বে আল্লাহর কাছে দুআ করা। সহিহ হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, রোজা অবস্থায় দুআ কবুল হয়। তাছাড়াও সহিহ হাদিসে ইফতারের আগে দুআ কবুলে বিষয়টিও প্রমাণিত। সে সময় মানুষ এক দিকে রোজা অবস্থায় থাকে অন্য দিকে রোজার কারণে ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত ও ক্লান্ত-শ্রান্ত থাকে। তাই এ অবস্থায় দুআ কবুলের অধিক আশা করা যায়। তবে প্রত্যেক রোজাদার নিজে নিজে দুআ করবে। এ ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে দুআ করা বিদআত। ◈ ৩)...

সূরা আল-আম্বিয়া (with reciting Video)

  সূরা আল-আম্বিয়া (২১:৩৫) থেকে একটি বিশেষ আয়াত রয়েছে: "প্রত্যেক প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর আমি তোমাদের পরীক্ষা করব মন্দ ও ভাল দ্বারা এবং আমারই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।" (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৩৫) সূরা আল-আম্বিয়া (সম্পূর্ণ সূরা) সূরা আল-আম্বিয়া পবিত্র কোরআনের ২১তম সূরা, মক্কায় অবতীর্ণ এবং এতে ১১২টি আয়াত রয়েছে। এই সূরায় আল্লাহ বিভিন্ন নবী ও রাসূলের জীবনকথা উল্লেখ করেছেন, যাতে আমাদের জন্য শিক্ষা এবং উপদেশ রয়েছে। এখানে মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা এবং আখিরাতের জবাবদিহিতার কথা। মনে প্রশান্তি লাভের উপায় ১. আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা রাখা : বিশ্বাস করুন যে আল্লাহ আমাদের সব পরিস্থিতি জানেন এবং তিনিই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। ২. নামাজ ও দোয়া করা : নিয়মিত সালাত আদায় এবং কুরআন তিলাওয়াত করলে অন্তর প্রশান্ত হয়। ৩. সবর ও শোকর : জীবনের সকল পরীক্ষায় ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। ৪. আখিরাতের প্রস্তুতি নেওয়া : পৃথিবীকে অস্থায়ী মনে করে আখিরাতের জন্য আমল করুন। সূরা আল-আম্বিয়া (২১তম সূরা) বিস্তারিত বিবরণ পরিচিতি সূরা আল-আম্বিয়া একটি ...

Zikir after Salat

T he Dua Allahumma A’inni Ala Zikrika Wa Shukrika Wa Husni Ibadatika was taught by our Prophet Muhammad (SAWS) to recite after every Salah. Consider reading the following Sahih Hadith. The Messenger of Allah (ﷺ) took hold of my hand and said, “O Mu’adh! By Allah I love you, so I advise you to never forget to recite after every prayer: “Allahumma a’inni ala dhikrika, wa shukrika, wa husni ‘ibadatika” – Abu Dawud and An- Nasa’i [ Riyad as-Salihin 384 ]  

কবরের ফিতনা দ্বারা কী উদ্দেশ্য

কবরের ফিতনা দ্বারা কী উদ্দেশ্য? কবরের আজাব এবং কবরের ফিতনা কি ভিন্ন? কারা এই ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে? ফিতনা (فتنة) শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে।  যেমন: পরীক্ষা, দাঙ্গা, গোলযোগ, বিপদ, কষ্ট, পরীক্ষা, সম্মোহন ও আকর্ষণ ইত্যাদি। [ডা. ফজলুর রাহমান রচিত আরবী-বাংলা অভিধান] তবে কুরআন-হাদিসে পরীক্ষা অর্থে ‘ফিতনা’ শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে ‘ফিতনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ “আর জেনে রেখো যে, নিঃসন্দেহে তোমাদের ধনদৌলত ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ।” [সূরা আনফাল: ২৮]  ইবনে কাসির রাহ. ফিতনা শব্দের অর্থ করতে গিয়ে বলেন, أي : اختبار وامتحان منه لكم অর্থাৎ পরীক্ষা করা, যাচায় বা পরখ করা। মহান আল্লাহ তোমাদেরকে এগুলো দিয়েছেন যেন তিনি জানতে পারেন যে, তোমরা এসব পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর ও তার আনুগত্য কর না কি এগুলোতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে তার থেকে দূরে সরে পড়।” [তাফসিরে ইবনে কাসির]  আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,   وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَة...

জান্নাতে আল্লাহ্‌র দর্শন লাভ

জান্নাতী ও আল্লাহর মাঝে কোন অন্তরায় থাকবে না:  জারীর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্‌ (রা.), আব্দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন কায়স (রা.) এবং সুহাইব ইব্‌ন সিনান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেন জান্নাতের অধিবাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদেরকে ডেকে বলা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ, আল্লাহ্‌র নিকট তোমাদের প্রতিশ্রুতি একটা নিয়ামত রয়েছে, যা তোমরা এখন দেখনি।  জান্নাতীরা তখন বলবে, সেটি কী? হে আমাদের রব্ব, আপনি তো আমাদের মুখমণ্ডল উজ্জ্বল করেছেন, আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং আমাদেরকে জান্নাতে দাখিল করেছেন। এরপর হিজাব বা পর্দা উঠে যাবে, তারা মহান আল্লাহ্‌কে দেখতে থাকবে।  এই সময় জান্নাতী এবং আল্লাহ্‌র মাঝে তাঁর মহিমার চাদর ব্যতীত আর কোন অন্তরায় থাকবে না। জান্নাতীরা আল্লাহকে দেখবে। আল্লাহ্‌র কসম, মহান আল্লাহ্‌ জান্নাতীদেরকে যত নিয়ামত দিয়েছেন, তার মধ্যে এটি হবে তাদের নিকট সবচেয়ে প্রিয়-পছন্দের।  অপর বর্ণনায় এসেছে: আল্লাহ্‌র দিদার বা আল্লাহ্‌কে দেখা অপেক্ষা অধিক প্রিয় তাদের নিকট আর কিছুই হবে না। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) কুরআনুল কারীম থেকে এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, (لِلَّذِيْنَ أَحْسَن...