সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আস-সালাত: আল-কুরআনে ও হাদীসে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত


ইসলামের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ও প্রথম ফরয হলো ঈমানের ঘোষণা দেওয়া; দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ও দ্বিতীয় ফরয। নির্ধারিত সময়ে সালাত ক্বায়েম করা মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য (৪:১০৩)। আল-কুরআন এবং হাদীস থেকে প্রমাণিত যে দিনে-রাতে নির্ধারিত সময়ে মোট পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। এই নির্ধারিত সময় হলো ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং ঈশা।  

যে সব আমলে-সালিহার (নেক আমলের) জন্য জান্নাত প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে সালাত হলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। মু’মিনগণ যে সব কারণে সফলতা লাভ করবে এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিকারী হবে তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত; সালাতে বিনয়, নম্র, খশু ও খজু হওয়া (২৩:২); সালাতে যত্নবান হওয়া (২৩:৯; ৭০:৩৪) এবং সালাতে সদা প্রতিষ্ঠিত-ক্বায়েম থাকার (৭০:২৩) মাধ্যমে একজন সালাত ক্বায়েমকারী সকল প্রকার অশ্লীল-ফাহিশা ও মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে (২৯:৪৫)”। 

আল-কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বিবরণ:

আল্লাহর নির্দেশ-১: “তুমি সালাত ক্বায়েম করো দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে (১১:১১৪)”। এই আয়াতে দিবসের প্রথম প্রান্তভাগে ফজরের সালাত, দ্বিতীয় প্রান্তভাগে যোহর ও আসরের সালাত; এবং রাতের প্রথমাংশে হলো মাগরিব ও ইশার সালাত; এই আয়াতে মোট পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। 

আল্লাহর নির্দেশ-২: “তুমি সালাত ক্বায়েম করবে সূর্য হেলে যাবার পর হতে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত এবং ক্বায়েম করবে ফজরের কুরআন পাঠও; কারণ ফজরের কুরআন পাঠ সাক্ষী স্বরূপ (১৭:৭৮)”। এই আয়াতে সূর্য হেলে যাবার পর যোহর ও আসর সালাত; রাতের ঘন অন্ধকার হলো মাগরিব এবং ইশার সালাত; এই আয়াতে ফজরে কুরআন পাঠ ‘কুরআনাল ফাজরে’ এই শব্দদ্বয়ের উল্লেখ করে ফজরের সালতের কথা বুঝানো হয়েছে।

আল্লাহর নির্দেশ-৩: তোমরা সকল সালাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের (সালাতিল উসত্বা) এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াও (২:২৩৮)। হাদীসের প্রমাণ অনুসারে অধিকাংশ গবেষক আলেমের মতে মধ্যবর্তী সালাত (সালাতিল উসত্বা) হচ্ছে আসরের সালাত। রাসুল (সা.) এর হাদীস দ্বারা এটা নির্দিষ্ট, যাতে খন্দকের যুদ্ধের দিন তিনি ‘সালাতিল উসত্বা’ বলতে আসরের সালাতকে অভিহিত করেছেন (বুখারী-২৯৩১; মুসলিম-৬২৭)।

আল্লাহর নির্দেশ-৪: “সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ করো সে বিষয়ের উপর যা তারা বলে; তোমার রব্বের প্রশংসা সহকারে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করো সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে এবং রাত্রিকালে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করো এবং দিবসের প্রান্তসমূহেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো (২০:১৩০)”। 

আল্লাহর বাণী: অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর সে বিষয়ের উপর যা তারা বলে এবং তোমার রব্বের প্রশংসা সহকারে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা কর  সূর্যদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে (৫০:৩৯)। 

উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে ‘সাব্বিহ বিহাম্‌দি’ অর্থ রব্বের প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করতে বলা হয়েছে দিন-রাতের নির্দিষ্ট সময়ে এবং তাঁর প্রশংসা সহকারে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হলো সালাত ক্বায়েম, কুরআন তিওয়াত, কুরআন অধ্যায়ন, দোআ, যিকির, তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর এবং অন্যান্য নফল সকল ইবাদত পালন করা।

আল্লাহর প্রশংসা সহকারে নির্দিষ্ট সময়ে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করার মাধ্যে সালাতের সময়ের প্রতি পরিষ্কার ইশারা করা রয়েছে। এই আয়াতে সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজর সালাত; সূর্যাস্তের পূর্বে তাসবীহ অর্থ আসর সালাত; রাত্রিকালের তাসবীহ বলতে মাগরিব ও ইশার সালাত বুঝানো হয়েছে। দিবসের প্রান্তগুলোতে তাসবীহ অর্থ একটি হলো প্রভাত যা ফজরের সালাত ইঙ্গিত করে; দিবসের দ্বিতীয় প্রান্ত হলো সূর্য পশ্চিমে হেলে যাবার পর যোহর সালাত ইঙ্গিত করে এবং তৃতীয় প্রান্ত হলো সন্ধ্যা যেখানে মাগরিবের সালাত নির্দেশ করে। এই আয়াতে তাসবীহসহ সালাতের পাঁচটি ওয়াক্তের কথা বলা হয়েছে। 

  আল্লাহর নির্দেশ-৫: “সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করো সন্ধ্যায় ও প্রভাতে এবং অপরাহ্নে ও যোহরের সময়ে; আর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সকল প্রশংসা তো তাঁরই (৩০:১৭-১৮)”। এই আয়াতদ্বয়ে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই তাসবীহ ঘোষণার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সালাত ক্বায়েম, কুরআন তিওয়াত, কুরআন অধ্যায়ন, দোআ, যিকির, তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর এবং অন্যান্য নফল সকল ইবাদত। এই আয়াতদ্বয়ে সন্ধ্যায় বলতে মাগরিব ও ঈশার সালাত; প্রভাত বলতে ফযরের সালাত; অপরাহ্ন বলতে আসরের সালাত এবং যোহর বলতে যোহরের সালাত।

আল্লাহর নির্দেশ-৬: “আমরা নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, যেন এরা সকাল-সন্ধ্যায় তার (দাউদ আ.) সাথে আমার তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করে (৩৮:১৮)”। এখানে সকাল বলতে ফজর এবং সন্ধ্যা বলতে মাগরিব ও ঈশার সালাত।  

আল্লাহর নির্দেশ-৭: “হে মু’মিনগণ, তোমাদের মালিকানা দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ করে; ফজরের সালাতের পূর্বে, যোহরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ তখন এবং ঈশার সালাতের পরে; এই তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময় (২৪:৫৮)”। এই আয়াতে তিনটি সালাতের সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহর নির্দেশ-৮: “আর তুমি তোমার রব্বকে যিকির (স্মরণ) কর তোমার নাফস দিয়ে (মনে মনে) সবিনয়ে, সশংকচিত্তে এবং অনুচ্চস্বরে, সকাল ও সন্ধায়; আর তুমি হবে না উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত (৭:২০৫)”। এই যিকির (স্মরণ) করার অর্থ সালাত এবং অন্যান্য যিকির তথা তাসবীহ, তাহলীল, তাহমীদ, কুরআন তিওয়াত, দোয়া ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা বলতে সুনির্দিষ্টভাবে দুটি সময়ে ফজরের  এবং মাগরিবের সালাতকে বুঝানো হয়েছে। 

হাদীসে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত: হাদীসের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুসারে রাসুল (সা.) মিরাজ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রাপ্ত হন। রাসুল (সা.) তাঁর সকল সাহাবি (রা.)-দের নিয়ে মদীনার জীবনে পাঁচ অয়াক্ত সালাত ক্বায়েম করেন এই মর্মে ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহর বিবরণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) থেকে সাহাবি (রা.); সাহাবি (রা.) থেকে তাবেঈ (রাহি.); তাবেঈ থেকে তাবে-তাবেঈ; তাবে-তাবেঈ থেকে বিভিন্ন সময় পরিক্রম করে বর্তমানে আমারা এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পেয়েছি এবং তা ক্বায়েম করে চলেছি। আল্লাহ সকলের প্রতি রহম বর্ষণ করুন।    সারসংক্ষেপ: আল-কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর এইসব বাণী তথা আয়াতসমূহের মাধ্যমে এবং তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই মুসলিমদের জন্য ফরজ। আর এই সালাতের নির্দিষ্ট সময় হলো ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং ঈশা। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামাত - সুন্নাতের একনিষ্ঠ অনুসারীগণ কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উপরই অবিচল সেই নবীর (সা.) যুগ থেকে। 

এর বিপরীতে আল-কুরআনে তিন ওয়াক্ত সালাতের বিবরণ আছে বলে মুসলিম নামধারী একটি দল একপ্রকার প্রপাগান্ডা চালিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করছে; আল-কুরআন এবং হাদীসের আলোকে তাদের এই দাবি সর্বতভাবে মিথ্যা; এই দাবির পক্ষে তাদের কোনই ভিত্তি নেই; উপরোন্ত যারা তিন ওয়াক্ত সালাতের প্রপাগান্ডা চালান, তারা রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য করেন না; অনুসরণ করেন না তাঁর শিক্ষা, হাদীস, সুন্নাহ এবং তাঁর আদর্শকে। 

অথচ আল-কুরআনে বলা হয়েছে “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য কর (৩:১৩২; ৫:৯২; ২৪:৫৬; ৪৭:৩৩) এবং “তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আর্দশ (৩৩:২১)”। এই সব অকাট্ট হুকুমের বিপরীতে কেউ যদি রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা, হাদীস, সুন্নাহ এবং আদর্শকে ইচ্ছাকৃতভবে বাতিল করে, তবে সে অবশ্যই রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাবে; আর এই মুসলিম কোন ধরণের মুসলিম বলে বিবেচিত হবে তা আল্লাহই জানেন; আল্লাহ সর্বজ্ঞ।        

আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী পূণ্য আছে সালাত ক্বায়েমের মধ্যে; আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার অন্যতম মাধ্যম হলো সালাত; আল্লাহর নির্দেশ, বান্দা যেন সালাতের প্রতি যত্নবান হয়; যারা সালাত ক্বায়েম করে, যারা সালাতের মধ্যেই তাদের রব্বের নিকট সকল প্রকার সাহায্যের আবেদন করে তাদের জন্য রয়েছে তাদের রব্বের পক্ষ থেকে পুরস্কার। মুসলিম জাতির পিতা ইব্‌রাহীম (আ.)-এর দোয়ার (১৪:৪০) সাথে দোয়া মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই: 

হে আমাদের রব্ব, তুমি আমাদেরকে সালাত ক্বায়েমকারী কর এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব্ব, তুমি আমাদের দোয়াকে কবুল কর ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাসূল (সা.) এর কবর যিয়ারত সম্পর্কিত যয়ীফ বা দুর্বল হাদীস

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘তিনটি মসজিদ ব্যতীত বরকতের আশায় অন্য কোনো স্থানের  উদ্দেশ্যে লম্বা সফর করা যাবে না, তিনটি মসজিদ হলো-(১) মসজদুল হারাম (মক্কা), (২) মসজিদূর রাসূল অর্থাৎ-মসজিদে নববী (মদীনা) এবং (৩) বায়তুল মুকাদ্দাস (জেরুযালেম)।’(সহিহ বুখারী-হা: ১১৮৯,সহিহ মুসলিম-হা: ১৩৯৭)।   যে সকল হাদীস দ্বারা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কবর যিয়ারত করার উদ্দেশ্যে লম্বা সফর বৈধ হওয়ার দলীল পেশ করা হয়, সে সকল হাদীসের বর্ণনাসূত্র দুর্বল ও মাওযূ বা বানোয়াট। হাফিজ দারাকুতনী, বায়হাক্বী, ইবনু হাজর প্রমুখ মুহাদ্দিস এই সব হাদীসসমূহের পরস্পর দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। সুতরাং উক্ত দুর্বল হাদীসগুলোকে সহিহ হাদীসের মোকাবিলায় পেশ করা বৈধ হবে না।    রাসুল (সা.) কবর জিয়ারত সম্পর্কিত বর্ণনাসূত্র যয়ীফ (দুর্বল) বা মাওদূ (জাল-বানোয়াট): এ বিষয়ে কতিপয় যয়ীফ ও মাওদূ হাদীস এখানে উল্লেখ করা হল যাতে পাঠকবৃন্দ সেগুলো জানতে পারেন ও ধোঁকা থেকে সতর্ক থাকেন।   প্রথম হাদীস: “যে আমার কবর যিয়ারত করবে, আমার শাফা’য়াত তার প্রাপ্য হবে”। দুটি সনদে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। প্রথম সনদের রাবী অত্যন্ত দুর্বল, ...

জান্নাতে প্রবেশের দৃশ্য এবং বিভিন্ন মর্যাদার দরজা (বাব)

যারা তাদের রব্বকে ভয় করত তাদেরকে দলেদলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা জান্নাতের নিকট উপস্থিত হবে তখন এর দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হবে। জান্নাতের দ্বাররক্ষীরা বলবে তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী হও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর স্থায়ীভাবে। (৩৯:৭৩) যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন মু’মিন-মুত্তাকীরা বলবে, “প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে অধিকারী করিয়েছেন এই ভূমির; আমরা জান্নাতে যেথায় ইচ্ছা বসবাস করব; সদাচারীদের পুরস্কার কত উত্তম” (৩৯:৭৪)।  এছাড়া বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থে বর্ণিত জান্নাতের বিভিন্ন দরজার (গেট বা বাবের) যে  উল্লেখ পাওয়া যায় তা বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে, সেই সাথে এসকল গেটগুলি বান্দার জন্য মর্যাদার বিশেষ প্রতীকও বটে। যেমন:  (১) বাব-আস সালাহ দিয়ে সালাত আদায়ে তৎপর মু’মিন-মুত্তাকীরা প্রবেশ করবে, (২) বাব-আল জিহাদ দিয়ে দুনিয়ার জীবনে জিহাদে অংশগ্রহণকরীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, (৩) বাব-আস সাদাক্বাহ দিয়ে ঐসব ব্যক্তিবর্গ প্রবেশ করবে যারা দুনিয়াতে বেশী-বেশী দান ও সাদাক্বাহ করেছে, (৪) বাব-আর রাইয়ান তাদের জন্য নির্দিষ্ট যারা নিয়ম...

আল্লাহ তা‘আলার হক বা প্রাপ্য - পর্ব-১

আল্লাহ তা ‘ আলা স্বীয় বান্দাদের জলে-স্থলে, শরীরে ও দিগন্ত জুড়ে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নি‘আমতরাজি দ্বারা আবৃত করে রেখেছেন। তিনি বলেন, ﴿ أَلَمۡ تَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ سَخَّرَ لَكُم مَّا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِ وَأَسۡبَغَ عَلَيۡكُمۡ نِعَمَهُۥ ظَٰهِرَةٗ وَبَاطِنَةٗ ﴾ [لقمان: ٢٠] “তোমরা কি দেখ না আল্লাহ তা ‘ আলা নভোমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডলে যা কিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি‘আমতসমূহ পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন ?” [সূরা লুকমান, আয়াত: ২০] অন্যত্র বলেন , ﴿ وَءَاتَىٰكُم مِّن كُلِّ مَا سَأَلۡتُمُوهُۚ وَإِن تَعُدُّواْ نِعۡمَتَ ٱللَّهِ لَا تُحۡصُوهَآۗ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَظَلُومٞ كَفَّارٞ ٣٤ ﴾ [ابراهيم: ٣٤] “যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি-ই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নি‘আমত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। আফসোস! মানুষ সীমাহীন অন্যায়পরায়ণ, অকৃতজ্ঞ।” [সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৩৪] ﴿ وَإِن تَعُدُّواْ نِعۡمَةَ ٱللَّهِ لَا تُحۡصُوهَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ لَغَفُورٞ رَّحِيمٞ ١٨ ﴾ [النحل: ١٨] “যদি আল্লাহর নি ‘ আমত গণনা কর, তবে গুণে শেষ ক...

শবে বরাত ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

  শবে বরাতের আভিধানিক অর্থ অনুসন্ধান: শব ফারসি শব্দ । অর্থ রাত বা রজনী । বরাত শব্দটিও মূলে ফারসি । অর্থ ভাগ্য । দু’শব্দের একত্রে অর্থ হবে , ভাগ্য-রজনী । বরাত শব্দটি আরবী ভেবে অনেকেই ভুল করে থাকেন । কারণ বরাত বলতে আরবী ভাষায় কোনো শব্দ নেই । যদি বরাত শব্দটি আরবী বারাআত শব্দের অপভ্রংশ ধরা হয় তবে তার অর্থ   হবে — সম্পর্কচ্ছেদ বা বিমুক্তিকরণ । কিন্তু কয়েকটি কারণে এ অর্থটি এখানে অগ্রাহ্য , মেনে নেয়া যায় না- ১. আগের শব্দটি ফারসী হওয়ায় বরাত শব্দটিও ফারসী হবে , এটাই স্বাভাবিক । ২. শাবানের মধ্যরজনীকে আরবী ভাষার দীর্ঘ পরম্পরায় কেউই বারা‘আতের রাত্রি হিসাবে আখ্যা দেন নি । ৩. রমযান মাসের লাইলাতুল কাদরকে কেউ-কেউ লাইলাতুল বারা‘আত হিসেবে নামকরণ করেছেন , শাবানের মধ্যরজনীকে নয় । আরবী ভাষায় এ রাতটিকে কী বলা হয় ? আরবী ভাষায় এ রাতটিকে লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান- শাবান মাসের মধ্য রজনী — হিসেবে অভিহিত করা হয় । শাবানের মধ্যরাত্রির কি কোনো ফযিলত বর্ণিত হয়েছে ? শাবান মাসের মধ্য রাত্রির ফযিলত সম্পর্কে কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে: ১. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ...

আল-কুরআনে জাহান্নামের বর্ণনা

  জাহান্নাম (الْجَهَنَّمُ) শব্দটি হিব্রু ভাষা থেকে গৃহীত; আবার কেউ-কেউ মনে করেন জাহান্নাম শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে উদ্ভুদ্ধ। জাহান্নামের অর্থ হলো দোযখ, নরক, আগুনের আধার। জাহান্নাম শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গে মোট ৭৭ বার আল-কুরআনে ব্যবহৃত হয়েছে।    আল্লাহ্‌ সুব্‌হানাহু ওয়া-তা’য়ালার বাণী: (وَالَّذِيۡنَ يَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اصۡرِفۡ عَنَّا عَذَابَ جَهَـنَّمَ ​ۖ اِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا ​ۖ) এবং তারা বলে, “হে আমাদের রব্ব, আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব বিদুরিত করুন; এর আযাব তো নিশ্চিত বিনাশ’ (২৫:৬৫)।    আল্লাহ্‌র বাণী: (وَاِذَا قِيۡلَ لَهُ اتَّقِ اللّٰهَ اَخَذَتۡهُ الۡعِزَّةُ بِالۡاِثۡمِ​ فَحَسۡبُهٗ جَهَنَّمُ​ؕ وَلَبِئۡسَ الۡمِهَادُ‏) যখন তাকে বলা হয়, ‘তুমি আল্লাহ্‌কে ভয় কর’ তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপানুষ্ঠানে লিপ্ত করে; সুতরাং জাহান্নামই তার জন্য যথেষ্ট; এবং নিশ্চয় জাহান্নাম অতি নিকৃষ্ট আবাস্থল (২:২০৬)।    যারা শির্‌ক-কুফুরি করে, যুলুম-অত্যাচার করে, আল্লাহ্‌র নিদর্শনকে অস্বীকার করে, আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহ্‌র ক্রোধের পাত্র হয়, তাদের জন্য রয়েছে...

কবরের ফিতনা দ্বারা কী উদ্দেশ্য

কবরের ফিতনা দ্বারা কী উদ্দেশ্য? কবরের আজাব এবং কবরের ফিতনা কি ভিন্ন? কারা এই ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে? ফিতনা (فتنة) শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে।  যেমন: পরীক্ষা, দাঙ্গা, গোলযোগ, বিপদ, কষ্ট, পরীক্ষা, সম্মোহন ও আকর্ষণ ইত্যাদি। [ডা. ফজলুর রাহমান রচিত আরবী-বাংলা অভিধান] তবে কুরআন-হাদিসে পরীক্ষা অর্থে ‘ফিতনা’ শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিকে ‘ফিতনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ “আর জেনে রেখো যে, নিঃসন্দেহে তোমাদের ধনদৌলত ও সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ।” [সূরা আনফাল: ২৮]  ইবনে কাসির রাহ. ফিতনা শব্দের অর্থ করতে গিয়ে বলেন, أي : اختبار وامتحان منه لكم অর্থাৎ পরীক্ষা করা, যাচায় বা পরখ করা। মহান আল্লাহ তোমাদেরকে এগুলো দিয়েছেন যেন তিনি জানতে পারেন যে, তোমরা এসব পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর ও তার আনুগত্য কর না কি এগুলোতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে তার থেকে দূরে সরে পড়।” [তাফসিরে ইবনে কাসির]  আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,   وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَة...