সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আস-সালাত: আল-কুরআনে ও হাদীসে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত


ইসলামের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ও প্রথম ফরয হলো ঈমানের ঘোষণা দেওয়া; দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ও দ্বিতীয় ফরয। নির্ধারিত সময়ে সালাত ক্বায়েম করা মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য (৪:১০৩)। আল-কুরআন এবং হাদীস থেকে প্রমাণিত যে দিনে-রাতে নির্ধারিত সময়ে মোট পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। এই নির্ধারিত সময় হলো ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং ঈশা।  

যে সব আমলে-সালিহার (নেক আমলের) জন্য জান্নাত প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে সালাত হলো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। মু’মিনগণ যে সব কারণে সফলতা লাভ করবে এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের অধিকারী হবে তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত; সালাতে বিনয়, নম্র, খশু ও খজু হওয়া (২৩:২); সালাতে যত্নবান হওয়া (২৩:৯; ৭০:৩৪) এবং সালাতে সদা প্রতিষ্ঠিত-ক্বায়েম থাকার (৭০:২৩) মাধ্যমে একজন সালাত ক্বায়েমকারী সকল প্রকার অশ্লীল-ফাহিশা ও মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে (২৯:৪৫)”। 

আল-কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের বিবরণ:

আল্লাহর নির্দেশ-১: “তুমি সালাত ক্বায়েম করো দিবসের দুই প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে (১১:১১৪)”। এই আয়াতে দিবসের প্রথম প্রান্তভাগে ফজরের সালাত, দ্বিতীয় প্রান্তভাগে যোহর ও আসরের সালাত; এবং রাতের প্রথমাংশে হলো মাগরিব ও ইশার সালাত; এই আয়াতে মোট পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের কথা ব্যক্ত করা হয়েছে। 

আল্লাহর নির্দেশ-২: “তুমি সালাত ক্বায়েম করবে সূর্য হেলে যাবার পর হতে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত এবং ক্বায়েম করবে ফজরের কুরআন পাঠও; কারণ ফজরের কুরআন পাঠ সাক্ষী স্বরূপ (১৭:৭৮)”। এই আয়াতে সূর্য হেলে যাবার পর যোহর ও আসর সালাত; রাতের ঘন অন্ধকার হলো মাগরিব এবং ইশার সালাত; এই আয়াতে ফজরে কুরআন পাঠ ‘কুরআনাল ফাজরে’ এই শব্দদ্বয়ের উল্লেখ করে ফজরের সালতের কথা বুঝানো হয়েছে।

আল্লাহর নির্দেশ-৩: তোমরা সকল সালাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী সালাতের (সালাতিল উসত্বা) এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা বিনীতভাবে দাঁড়াও (২:২৩৮)। হাদীসের প্রমাণ অনুসারে অধিকাংশ গবেষক আলেমের মতে মধ্যবর্তী সালাত (সালাতিল উসত্বা) হচ্ছে আসরের সালাত। রাসুল (সা.) এর হাদীস দ্বারা এটা নির্দিষ্ট, যাতে খন্দকের যুদ্ধের দিন তিনি ‘সালাতিল উসত্বা’ বলতে আসরের সালাতকে অভিহিত করেছেন (বুখারী-২৯৩১; মুসলিম-৬২৭)।

আল্লাহর নির্দেশ-৪: “সুতরাং তুমি ধৈর্য ধারণ করো সে বিষয়ের উপর যা তারা বলে; তোমার রব্বের প্রশংসা সহকারে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করো সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে এবং রাত্রিকালে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করো এবং দিবসের প্রান্তসমূহেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো (২০:১৩০)”। 

আল্লাহর বাণী: অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর সে বিষয়ের উপর যা তারা বলে এবং তোমার রব্বের প্রশংসা সহকারে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা কর  সূর্যদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে (৫০:৩৯)। 

উপরোক্ত আয়াতদ্বয়ে ‘সাব্বিহ বিহাম্‌দি’ অর্থ রব্বের প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করতে বলা হয়েছে দিন-রাতের নির্দিষ্ট সময়ে এবং তাঁর প্রশংসা সহকারে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করার গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হলো সালাত ক্বায়েম, কুরআন তিওয়াত, কুরআন অধ্যায়ন, দোআ, যিকির, তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর এবং অন্যান্য নফল সকল ইবাদত পালন করা।

আল্লাহর প্রশংসা সহকারে নির্দিষ্ট সময়ে তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করার মাধ্যে সালাতের সময়ের প্রতি পরিষ্কার ইশারা করা রয়েছে। এই আয়াতে সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজর সালাত; সূর্যাস্তের পূর্বে তাসবীহ অর্থ আসর সালাত; রাত্রিকালের তাসবীহ বলতে মাগরিব ও ইশার সালাত বুঝানো হয়েছে। দিবসের প্রান্তগুলোতে তাসবীহ অর্থ একটি হলো প্রভাত যা ফজরের সালাত ইঙ্গিত করে; দিবসের দ্বিতীয় প্রান্ত হলো সূর্য পশ্চিমে হেলে যাবার পর যোহর সালাত ইঙ্গিত করে এবং তৃতীয় প্রান্ত হলো সন্ধ্যা যেখানে মাগরিবের সালাত নির্দেশ করে। এই আয়াতে তাসবীহসহ সালাতের পাঁচটি ওয়াক্তের কথা বলা হয়েছে। 

  আল্লাহর নির্দেশ-৫: “সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করো সন্ধ্যায় ও প্রভাতে এবং অপরাহ্নে ও যোহরের সময়ে; আর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে সকল প্রশংসা তো তাঁরই (৩০:১৭-১৮)”। এই আয়াতদ্বয়ে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই তাসবীহ ঘোষণার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সালাত ক্বায়েম, কুরআন তিওয়াত, কুরআন অধ্যায়ন, দোআ, যিকির, তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল, তাকবীর এবং অন্যান্য নফল সকল ইবাদত। এই আয়াতদ্বয়ে সন্ধ্যায় বলতে মাগরিব ও ঈশার সালাত; প্রভাত বলতে ফযরের সালাত; অপরাহ্ন বলতে আসরের সালাত এবং যোহর বলতে যোহরের সালাত।

আল্লাহর নির্দেশ-৬: “আমরা নিয়োজিত করেছিলাম পর্বতমালাকে, যেন এরা সকাল-সন্ধ্যায় তার (দাউদ আ.) সাথে আমার তাসবীহ (পবিত্রতা) ঘোষণা করে (৩৮:১৮)”। এখানে সকাল বলতে ফজর এবং সন্ধ্যা বলতে মাগরিব ও ঈশার সালাত।  

আল্লাহর নির্দেশ-৭: “হে মু’মিনগণ, তোমাদের মালিকানা দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ করে; ফজরের সালাতের পূর্বে, যোহরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ তখন এবং ঈশার সালাতের পরে; এই তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময় (২৪:৫৮)”। এই আয়াতে তিনটি সালাতের সময়ের উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহর নির্দেশ-৮: “আর তুমি তোমার রব্বকে যিকির (স্মরণ) কর তোমার নাফস দিয়ে (মনে মনে) সবিনয়ে, সশংকচিত্তে এবং অনুচ্চস্বরে, সকাল ও সন্ধায়; আর তুমি হবে না উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত (৭:২০৫)”। এই যিকির (স্মরণ) করার অর্থ সালাত এবং অন্যান্য যিকির তথা তাসবীহ, তাহলীল, তাহমীদ, কুরআন তিওয়াত, দোয়া ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা বলতে সুনির্দিষ্টভাবে দুটি সময়ে ফজরের  এবং মাগরিবের সালাতকে বুঝানো হয়েছে। 

হাদীসে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত: হাদীসের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুসারে রাসুল (সা.) মিরাজ থেকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রাপ্ত হন। রাসুল (সা.) তাঁর সকল সাহাবি (রা.)-দের নিয়ে মদীনার জীবনে পাঁচ অয়াক্ত সালাত ক্বায়েম করেন এই মর্মে ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহর বিবরণ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) থেকে সাহাবি (রা.); সাহাবি (রা.) থেকে তাবেঈ (রাহি.); তাবেঈ থেকে তাবে-তাবেঈ; তাবে-তাবেঈ থেকে বিভিন্ন সময় পরিক্রম করে বর্তমানে আমারা এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পেয়েছি এবং তা ক্বায়েম করে চলেছি। আল্লাহ সকলের প্রতি রহম বর্ষণ করুন।    সারসংক্ষেপ: আল-কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর এইসব বাণী তথা আয়াতসমূহের মাধ্যমে এবং তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই মুসলিমদের জন্য ফরজ। আর এই সালাতের নির্দিষ্ট সময় হলো ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব এবং ঈশা। আহলি সুন্নাত ওয়াল জামাত - সুন্নাতের একনিষ্ঠ অনুসারীগণ কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উপরই অবিচল সেই নবীর (সা.) যুগ থেকে। 

এর বিপরীতে আল-কুরআনে তিন ওয়াক্ত সালাতের বিবরণ আছে বলে মুসলিম নামধারী একটি দল একপ্রকার প্রপাগান্ডা চালিয়ে সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করছে; আল-কুরআন এবং হাদীসের আলোকে তাদের এই দাবি সর্বতভাবে মিথ্যা; এই দাবির পক্ষে তাদের কোনই ভিত্তি নেই; উপরোন্ত যারা তিন ওয়াক্ত সালাতের প্রপাগান্ডা চালান, তারা রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য করেন না; অনুসরণ করেন না তাঁর শিক্ষা, হাদীস, সুন্নাহ এবং তাঁর আদর্শকে। 

অথচ আল-কুরআনে বলা হয়েছে “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য কর (৩:১৩২; ৫:৯২; ২৪:৫৬; ৪৭:৩৩) এবং “তোমাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আর্দশ (৩৩:২১)”। এই সব অকাট্ট হুকুমের বিপরীতে কেউ যদি রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা, হাদীস, সুন্নাহ এবং আদর্শকে ইচ্ছাকৃতভবে বাতিল করে, তবে সে অবশ্যই রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য থেকে বেরিয়ে যাবে; আর এই মুসলিম কোন ধরণের মুসলিম বলে বিবেচিত হবে তা আল্লাহই জানেন; আল্লাহ সর্বজ্ঞ।        

আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী পূণ্য আছে সালাত ক্বায়েমের মধ্যে; আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার অন্যতম মাধ্যম হলো সালাত; আল্লাহর নির্দেশ, বান্দা যেন সালাতের প্রতি যত্নবান হয়; যারা সালাত ক্বায়েম করে, যারা সালাতের মধ্যেই তাদের রব্বের নিকট সকল প্রকার সাহায্যের আবেদন করে তাদের জন্য রয়েছে তাদের রব্বের পক্ষ থেকে পুরস্কার। মুসলিম জাতির পিতা ইব্‌রাহীম (আ.)-এর দোয়ার (১৪:৪০) সাথে দোয়া মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই: 

হে আমাদের রব্ব, তুমি আমাদেরকে সালাত ক্বায়েমকারী কর এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব্ব, তুমি আমাদের দোয়াকে কবুল কর ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জান্নাতী, যারা জান্নাতের প্রবেশ করবে তাদের বৈশিষ্ট্য

জান্নাতীদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, বিনয়াবনত, গোপন ও প্রকাশ্যে ব্যয়কারী, তাওবাকারী এবং শেষরাতে ক্ষমাপ্রার্থী; তারা তাকওয়া অবলম্বন করে চলে তারা বলে, “হে আমাদের রব্ব, আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর এবং আমাদিগকে আগুনের  আযাব থেকে রক্ষা কর”।  জান্নাতীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই যে তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয়, রসুলের প্রতি ঈমান আনে, রসুলদের প্রতি সম্মান করে, আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করে এবং ভালর দ্বারা মন্দ দূরীভূত করে, আল্লাহই তাদের পাপ ক্ষমা করবেন এবং দাখিল করাবেন জান্নাতে।  রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন মু’মিনেরা শ্রবণ করে তখন তারা যে সত্য উপলদ্ধি করেছে তাতে তাদের চক্ষু বিগলিত হয়, তারা বলে, হে আমাদের রব্ব, আমরা ঈমান এনেছি, সুতরাং তুমি আমাদিগকে সাক্ষ্যবহদের মধ্যে তালিকাভুক্ত কর।  আমরা আল্লাহ, রাসুল ও আল-কুরআনে ঈমান এনেছি এবং আমরা প্রার্থনা করি, হে আল্লাহ, তুমি আমাদিগকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত কর; এবং তাদের এই কথার জন্য আল্লাহ তাদের পুরস্কার হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন জান্নাত।  যারা ঈমান আনে, হিজরত করে এবং নিজেদের সম্প...

চোগলখোরের পরিচয় ও পরিণাম

অন্যের কাছে নিজেকে আপন করে তুলতে বা নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে বা দুনিয়াবী সুযোগ-সুবিধা লাভে কিংবা ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে যে মানুষ একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ায়; সে হচ্ছে চোগলখোর। ফেতনা-ফাসাদ ও অসন্তষ্টি সৃষ্টির লক্ষে একজনের কথা অন্যজনের কাছে বলে বেড়ানোই হচ্ছে চোগলখুরি। ইসলামে চোগলখুরিকে গোনাহের কাজ এবং হারাম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চোগলখুরীর কারণে মানুষের মাঝে ফেতনা সৃষ্টি হয়। পরস্পরের ভালো সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। পারস্পরিক দুশমনি বৃদ্ধি পায়। হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এ কারণেই চোগলখোর বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং প্রিয় নবি। চোগলখুরির পরিচয় হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সাবধান! আমি তোমাদেরকে জানাচ্ছি চোগলখুরি কী? এ হচ্ছে কুৎসা রটনা করা; যাতে মানুষের মাঝে বৈরিতার সৃষ্টি হয়। তিনি আরো বলেছেন, কোনো ব্যক্তি সত্য কথা বলতে বলতে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়; আবার কেউ মিথ্যা বলতে বলতে মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।’ কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা চোগলখোরদের নিন্দা...

মহান আল্লাহ - তিনি বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত সত্তা

সর্বোজ্ঞ-প্রজ্ঞাময় আল্লাহ কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবেন এবং জান্নাতীদের সাথে কথা বলবেন; আল-কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত আল্লাহর মুখ-চেহারা, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল ও নাফস আছে; এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে মুসলিমদের একটি দল বিশ্বাস করেন, যেহেতু আল্লাহকে দেখা যাবে সেহেতু আল্লাহর একটি নির্দিষ্ট আকার (Size) আছে; তাদের মতে “আকারযুক্ত বস্তু দেখা যায় এবং নিরাকার বস্তু দেখ যায় না”। তারা বলেন যে, আল্লাহর এই আকার তাঁর মহান জাতসত্তা ও মহান মর্যাদার সাথে শোভনীয় এবং মানানসই; তারা আরো বলেন যে, আল্লাহর আকার তাঁর সৃষ্ট কোন বস্তুর আকার ও আকৃতির মত নয়। “নিরাকার কোন বস্তুকে দেখা যায় না” এই ধারণার উপর ভিত্তির করেই মুসলিমেদের এই দলটি “আল্লাহর আকার আছে” এই বিশ্বাস লালন করেন।  মুসলিমদের দ্বিতীয় দলটি মনে করেন যে “আল্লাহ নিরাকার অর্থাৎ আল্লাহর কোন আকার নেই”। আল্লাহর চেহারা-মুখ, হাত, পা, চোখ, কান, আঙ্গুল, নাফস ইত্যাদির যে বর্ণনা কুরআনে ও হাদীসে আছে তা মূলত আল্লাহর অনুপম শক্তির বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহর অঙ্গ ও প্রত্যঙ্গের উল্লেখ করার সময় এই দ্বিতীয় দলটি এইভাবে বলেন যে, আল্লাহ‌র ক্বুদরতি হাত, ক্বুদরতি পা, ক্বুদরতি চোখ, ক্বুদরত...

নিজ ঘরে যে নামাজ আদায়ে রয়েছে কল্যাণ

  নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত। ঈমানের পরেই যা পালনীয়। একজন মানুষের ঈমানের স্বীকৃতি দেয়ার পর প্রথম ইবাদত হলো নামাজ আদায় করা, যা ইসলামের দ্বিতীয় রোকন। কুরআন এবং হাদিসে একাধিকবার নামাজ আদায়ের নির্দেশ এবং ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর জন্য তা পালনে রয়েছে দুনিয়ার কল্যাণ এবং আখেরাতের মুক্তি। এ কারণে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরজ নামাজ আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে বেশি বেশি সুন্নত ও নফল নামাজ এবং এ নামাজের মাধ্যমে বেশি বেশি সেজদা আদায়ের নসিহত পেশ করেছেন। নামাজের জামাআতের ব্যাপারে রয়েছে জোর তাগিদ। আবার নফল ও সুন্নাত নামাজ নিজ ঘরে আদায়েরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। দুনিয়ার কল্যাণ এবং পরকালের মুক্তিতে নফল নামাজ আদায়ের বিকল্প নেই। হাদিসে এসেছে- হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে (ফরজ) নামাজ সম্পন্ন করে তখন তার উচিত সে যেন তার নামাজের কিছু অংশ (সুন্নাত নামাজ) নিজের বাড়ির জন্য রাখে। কারণ বাড়িতে আদায় করা কিছু নামাজের মধ্যে আল্লাহ তাআলা কল্যাণ নিহিত রেখেছেন।’ (মুসলিম) হজরত যায়েদ বিন সাবেত রাদিয়...