সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জান্নাত হল একটি চিরস্থায়ী আবাসস্থল

যারা ঈমান আনে, আমলে সালিহা করে এবং সৎকর্মপরায়ণশীল, রব্বের প্রতি বিনয়াবনত, রব্বের ভয়ে ভীত, তারাই হলো আসহাবুল জান্নাত- জান্নাতের অধিবাসী, তারাই দাখিল হবে জান্নাতে, তাদের জন্যে রয়েছে তাদের রব্বের রহমত, সন্তোষ, সমুচ্চ মর্যাদা, জান্নাতে উত্তম সুউচ্চ প্রাসাদ, উন্নত কক্ষ ও নিরাপদ বাসস্থানের প্রতিশ্রুতি। 

তারাই হবে জান্নাতের উত্তম পবিত্র অধিবাসী, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে আছে তাদের জন্য চির সবুজ উদ্যান ও স্থায়ী সুখ-শান্তি, সেখানে নাই কোন ক্লেশ, নাই কোন ক্লান্তি, এটি হবে তাদের জন্য এক নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।

থাকবে অপরিমিত জীবনোপকরণ, তারা যা কিছু কামনা করবে তাই পাবে, আর তা হবে তাদের রব্বের পক্ষ থেকে মর্যাদাপূর্ণ আপ্যায়ন। প্রথম মৃত্যুর পর তারা সেথায় আর মৃত্যু আস্বাদন করবে না। 

জান্নাতের দ্বার তাদের জন্য হবে উন্মুক্ত, সেখানে তারা হবে চিরস্থায়ী, থাকবে সেথায় বহুবিধ ফলমূল ও পানীয়, আনতনয়না সমবয়স্কাগণ, অপরিমিত রিযিক, আশ্রয়স্থল ও বসতি হিসাবে জান্নাত হবে কত উৎকৃষ্ট! মুত্তাকীদের জন্য ইহাই মহাসাফল্য।

যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের নির্ধারিত রিযিক ফলমূল, সেখানে তাদেরকে সম্মানিত করা হবে, তাদেরকে দান করা হবে জান্নাতুন নায়ীম, সেখানে তারা মুখামুখি আসনে আসীন হবে। 

তাদেরকে পরিবেশন করা হবে শুভ্র-উজ্জ্বল পাত্রে বিশুদ্ধ সুরা যা পানকারীদের জন্য হবে অত্যন্ত সুস্বাদু, তাতে থাকবে না কোন ক্ষতিকর কিছু, না তারা মাতাল হবে, তাদের সঙ্গে থাকবে স্ত্রী হিসাবে আনত-নয়না আয়তলোচনা হুরগণ, তারা দেখতে হবে যেন সুরক্ষিত ডিম্ব। 

জান্নাতীরা আনন্দে মগ্ন থাকবে মনোরম স্থানে, সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবন তরুণ ও যৌবনা তরুণী, নিজ-নিজ স্বামী-স্ত্রীরা হেলান দিয়ে বসবে সুশীতল ছায়ায় সুসজ্জিত আসনে, অবলোকন করবে জান্নাতের সৌন্দর্য্য, অবলোকন করবে জাহান্নামীদের দূর্দশা।

জান্নাতীদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দের দীপ্তি ফুটে উঠবে, সেথায় থাকবে তাদের জন্য সবরকমের ফলমূল এবং বাঞ্ছিত সবকিছু, সেথায় তারা সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে, সেখানে তারা না গরম, না শীত বোধ করবে। সন্নিহিত বৃক্ষছায়া থাকবে তাদের উপর, ফলমূল থাকবে সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়াত্তাধীন, আর থাকবে তাদের রব্বের পক্ষ থেকে “সালাম” সম্ভাষণ।

রেফারেন্স: আল-কুরআন (সুরা:আয়াত) অবলম্বনে: ৭:৪২; ৯:২১, ৯:৭২; ৯:৮৯; ৯:১০০; ১০:২৬; ১১:২৩; ১১:১০৮; ১৮:৩; ২০:৭৫-৭৬; ২৫:১৬; ২৫:৭৬; ২৯:৫৮-৫৯; ৩০:১৫; ৩১:৯; ৩৪:৩৭; ৩৫:৩৫; ৩৮:৪৯-৫৪; ৩৯:২০; ৪০:৪০; ৪১:৩১-৩২; ৪২:২২; ৪৪:৫৬;.৫৪:৫৪; ৬৫:১১; ৮৫:১১; ৯৮:৭-৮; ১৩:২৩-২৪; ২১:১০২; ৩৬:৫৫-৫৮; ৩৭:৪০-৪৯;  ৩৯:৭৩-৭৪; ৭৬:১৩-১৪; ৭৭:৪১-৪৪; ৭৮:৩১-৩৬; ৮৩:২৩-২৪; ৮৩:৩৫।

হে আল্লাহ, তুমিই আমাদের একমাত্র রব্ব, তুমিই একমাত্র দানকারী; আমরা তোমারই নিকট চিরস্থায়ী জান্নাতের দারুস সালামের অফুরুন্ত নিয়ামত প্রার্থনা করছি।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দ্বীনে ইসলামীর সৌন্দর্য - 2

ঈমানের পরে ইসলামের বড় বড় বিধানসমূহ হল: সালাত (নামায) প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা, রমযান মাসে সাওম (রোযা) পালন করা এবং সম্মানিত ঘরের হজ করা সে সম্পর্কে  শরীয়তের এই মহান বিধানসমূহ ও তার বিরাট উপকারিতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন। এই বিধিবিধানের দাবিস্বরূপ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য চেষ্টা-সাধনা করা ও এর প্রতিদানস্বরূপ ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা নিয়েও চিন্তা করুন। ০ সালাতের মধ্যে যা আছে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুন । এতে রয়েছে আল্লাহর জন্য ইখলাস তথা একনিষ্ঠতা, তার প্রতি পরিপূর্ণ মনোযোগ, প্রশংসা, দো‘আ ও প্রার্থনা, বিনয়। ঈমানের বৃক্ষের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব বাগিচার ক্ষেত্রে পানি সেচ দেয়ার মতোই । দিনে ও রাতে যদি বার বার সালাতের ব্যবস্থা না থাকত , তবে ঈমান-বৃক্ষ শুকিয়ে যেত এবং তার কাঠ বিবর্ণ হয়ে যেত; কিন্তু সালাতের বিভিন্ন ইবাদাতের কারণে ঈমান-বৃক্ষ বৃদ্ধি পায় এবং নতুনত্ব লাভ করে। এছাড়াও সালাতের অন্তর্ভুক্ত নানা বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করুন; যেমন: আল্লাহর যিকির ও স্মরণে মগ্ন থাকা— যা সব কিছুর চেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ। কিংবা এ দিকে চিন্তা করুন: সালাত সকল প্রকার অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। ০ এবা...